সৈয়দ বংশের ইতিবৃত্ত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট - সৈয়দ হোসাইন উল হক

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
📚#সৈয়দ_বংশের_ইতিবৃত্ত_ও_বর্তমান_প্রেক্ষাপট।
(সংগৃহিত)
▄▄▄▄
সৈয়দ অর্থ সর্বশ্রেষ্ঠ। ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বংশ। সৈয়দ বা স্যৈয়দ বা সাইয়্যেদ  সায়্যিদ।ইংরেজি ভাষায়: Sayed alsSayyid, Seyd, Syed, Saiyid, Seyed and Seyyed(আরবি ভাষায়: س  meaning Mister) (plural Sadah আরবি ভাষায়: سادة‎, Sādah) হল এমন একটি সম্মানসূচক উপাধি যা ধারা ইমাম আলী আ: এর ওরুসে এবং নবী নন্দিনী মা ফাতেমা (আ:) এর গর্ভে সন্তান ইমাম হাসান ও হোসাইনের (আ:)বংশধারার নবী মোহাম্মদ (সা:)বংশধরগণকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

⚪️নবী বংশ (আহলে বাইত) আ: ফযিলত’এর উপর কুর’আনের আয়াত ও হাদিস’এ রসূল (স.):-

🔰১: আয়াতে তাতহীর:
‎‪إنما يريد الله ليذهب عنكم الرجس أهل البيت ويطهركم تطهيرا  ‬
হে রসূলের আহলেবাইত! আল্লাহ তোমাদের কে সমস্ত অপবিত্রতা জিনিস থেকে দুরে রেখেছেন, আর যেমন ভাবে পবিত্রতা রাখা উচিত তেমন ভাবে পবিত্র বানিয়েছেন।
📖সুরায়ে আহজাব, আয়াত ন. ৩৩।

🔰২: আয়াতে মুওয়াদ্দাত:
‎قل لا أسئلكم عليه أجرا إلا المودة في القربى
হে আমার রসূল! তুমি ওদের বলে দাও আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন পারিশ্রমিক চাইনা শুধু আমার আহলে বাইত এর সাথে ভালবাসো(মুওয়াদ্দাত)।
📖সুরায়ে শুরা, আয়াত ন. ২৩।

🔰৩: আয়াতে মোবাহেলা:
‎(فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ )
হে আমার রসূল বলে দাও তোমরা তোমাদের পুত্রদের নিয়ে এসো আমি আমার পুত্রদেরকে নিয়ে আসছি আর তোমরা তোমাদের মহিলাদের কে নিয়ে এসো আমি আমারদের মহিলাদেরকে নিয়ে আসছি আর তোমরা তোমাদের নাফসকে নিয়ে এসো আমি আমার নাফসকে নিয়ে আসছি, তার পর এক অপরের উপর বদ্দুওয়া ও আল্লাহোর লানাত মিথ্যাবাদিদের উপর পাঠায়।
📖সুরায়ে আলে ইমরান, আয়াত ন. ৬১।

হাদিস ও রেওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, পুত্র’এর স্থানে হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হুসায়েন (আলায়হেমাস সালাম) ও মহিলার স্থানে মা’ফাতেমা (সালামুল্লাহ আলায়হা) ও রসূল (স.) এর আত্মার স্থানে হযরত আলি (আ.) কে নিয়ে গিয়েছিলেন।

📚মুসলিম শরিফের হাদিস:
‎(وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ ‪}‬ ‫فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ ‬} [آل عمران: 61] دَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ: ‪)‬اللهُمَّ هَؤُلَاءِ أَهْلِي‪(‬
যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (‫فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ‬) তখন রসূল আল্লাহ (স.) আলি ও ফাতেমা, হাসান ও হুসায়েন (আলায়হেমুস সালাম) কে ডেকে বললেন: আল্লাহুম্মা হা’উলাই আহলি অর্থাত: হে আমার আল্লাহ এরাই আমার আহলে বাইত।
📖সহি মুসলিম, খ: ৪, প্র: ১৮৭১, হা: ।

ইদানীং আরেক উপদ্রব শুরু হয়েছে ।প্রায়ই বিভিন্ন ইসলামী পন্ডিৎ জ্ঞানপাপীগন এই কথাটি বেশ জোরেশোরে বলছেন যে , ইসলামে বংশধারার কোন গুরুত্ব নেই ।আসলেই এ প্রসংগে এই কথাটি না বলে পারছি না যে , মহানবী (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত পৃথিবীতে সবথেকে নির্যাতিত বংশ হচ্ছে ইমরানের বংশধর ।অথচ এই ইমরানের বংশকেই স্বয়ং অাল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত সকল সৃষ্টিজগতের উপর খলীফা , ইমাম ও উলিল আমর হিসাবে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন ।
সকল মানব ও জ্বীনকে আদেশ দেয়া হয়েছে এই বলে যে , এই ইমরানের বংশের পবিত্র ইমাম (আঃ) গন তথা আহলে বায়েতগনকে যেন সর্বদা আনুগত্য করা হয় । এবং এই অনুসরন ও আনুগত্য রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্যের অনুরুপ ।ইসলামে বংশধারার কোন গুরুত্ব নেই বলে যারা চরম মিথ্যাচারিতা করে যাচ্ছেন তাদের জঘন্য কুৎসিত মিথ্যাচারের বিরুদ্বে সংক্ষিপ্ত কিছু জবাব।এই ইমরানের বংশের জন্যই ---
" ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকা বাদ”।
এখনও মসজিদে যে আযান প্রচারিত হয় সেটা এই আলীর (আঃ) সন্তানের মেহেরবানী ।

🔰“ নিশ্চ য়ই আল্লাহ নির্বাচিত করেছেন আদম ও নুহকে এবং ইব্রাহীমের বংশকে এবং ইমরানের বংশকে সকল জাতির উপরে।“
📖সুরা - আলে ইমরান / ৩৩ ।

ইবনে আব্বাস হতে বর্নিত হয়েছে ,রাসুল (সাঃ) হযরত ইব্রাহীমের (আঃ) বংশ থেকে ।তাই মুহাম্মাাদ (সাঃ) ও আলে মুহাম্মাাদ অর্থাৎ মুহাম্মাাদের (সাঃ) বংশধর হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) আহলে বাইত ।

📚সূত্র - তাফসীরে দুররে মানসুর , ২য় খন্ড ,পাতা-১৭ মিশরে মুদ্রিত ।
এও বর্নিত আছে যে , আলে ইব্রাহিম ,আলে ইমরান ও আলে মুহাম্মাাদের (সাঃ) নবুওয়াতের কারনে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়েছেন । যেহেতু রাসুল (সাঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ সেহেতু তার পবিত্র বংশধারা অন্যদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ।

এছাড়াও এ প্রসংগে আরও বলা যায় যে ,
🔰‘ ইয়াসীন , শপথ জ্ঞানগর্ভ কোরআনের , আপনি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত , আপনি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।’
📖সূরা - ইয়াসীন / ১-৪ ।
এখানে ‘ইয়াসীন’ বলতে কী বুঝান হয়েছে ?ইয়াসীন হলেন মুহাম্মাদ (সাঃ) , আর এতে কোন সন্দেহ নেই ।
অষ্টম ইমাম রেযা (আঃ) এর ভাষায় , আল্লাহ্ এর মাধ্যমে মুহাম্মাাদ ও আলে মুহাম্মাাদকে এক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন ।এটা এজন্য যে , আল্লাহ্ কারও ওপর সালাম প্রেরণ করেন নি , নবীগণ ব্যতীত ।

🔰মহামহিম আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন -
‘ সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের ওপর সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক।’📖সূরা - সাফফাত / ৭৯ ।

ইমাম রেযা (আঃ) আরও বলেন ,

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে -
🔰‘ সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক মূসা ও হারুনের ওপর।’📖সূরা - সাফফাত / ১২০ ।

খেয়াল করুন , আল্লাহ্ কিন্ত বলেন নি ,”সালাম বর্ষিত হোক আলে নূহের ওপর” ।
কিংবা বলেন নি , “সালাম বর্ষিত হোক আলে ইবরাহীমের ওপর”।কিংবা বলেন নি : “সালাম বর্ষিত হোক মূসা ও হারুনের আলের ওপর” ।

তবে আল্লাহ্ বলেছেন -
🔰" সালামুন আলা আলে ইয়াসীন " ।
“সালাম বর্ষিত হোক আলে ইয়াসীনের ওপর”।
📖সূরা - সাফফাত / ১৩০ ।
অর্থাৎ আলে মুহাম্মদ বা মুহাম্মাাদের বংশধর ।

🔰" এবং আমরা তাকে দিয়েছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুবকে এবং আমরা নির্দিষ্ট করেছিলাম তাঁর বংশধরের ভিতরে নবুয়ত ও কিতাব"।
📖সুরা - আনকাবুত / ২৭ ।

🔰"নিঃসন্দেহে আমরা ইবরাহীমের বংশধরকে দিয়েছি কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং আমরা তাদেরকে দিয়েছি এক বিশাল সার্বভৌম ক্ষমতা  " ।
📖সুরা - নিসা / ৫৪ ।

মহান আল্লাহ আদম ,নূহ , ইব্রাহিমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরদেরকে সমগ্র বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দান করেছেন । অর্থাৎ নবুয়ত ও রেসালতের জন্য এই বংশধরকেই আল্লাহ নির্বাচিত করেছেন । এবং সুরা নিসার ৫৪ নং আয়াতে বর্নিত "সার্বভৌম ক্ষমতা" বা "মুলকান আজীম" এর ব্যাখ্যায় মাওলানা মওদুদী লিখেছেন - 'ইমামত' ।
ঐ আয়াতেই নবীবংশের প্রতি হিংসুকদের জন্য আল্লাহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ।এমনকি প্রতি নামাজে নবীবংশ তথা পবিত্র আহলে বাইত (আঃ) গনের প্রতি দরুদ পাঠ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

🔰হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,অর্থাৎ যারা রাসূলের বংশধরের প্রতি হেয় মনোভাব রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তারা কখনও বেহেশেতের সুগন্ধী পাবে না।
📚 (তাফসীরে ইবনে আরাবী, ২য় খন্ড, ৪৩৩ পৃ, তাফসীরে কবীর, ২৭ খন্ড, ১৫৫,১৬৬ পৃ, তাফসীরে রুহুল বয়ান, ৮ম খন্ড, ৩১২ পৃ, নুজহাতুল মাজালিস ১২২ পৃ, খুতবাতুল মহররম ২৬২ পৃ, আলে রাসূল-১০০পৃ), [শানে আহলে বাইত, পৃষ্ঠাঃ ৩৫১]।

ঐতিহ্যকে ধারন ও লালন করাও মানুষের আরেকটা বৈশিষ্ট। আর  এসব কারনেই যখন মানুষ অর্থবিত্ত শিক্ষা সহ যাবতীয় দিক দিয়ে সচ্চল হয়ে যায়, তখন তার মধ্যে সম্মান ও ঐতিহ্যের একটা ম্পিহা কাজ করে। সম্মান জিনিসটা তার প্রচেষ্টা দ্বারা অর্জন করে নিতে পারলেও ঐতিহ্য জিনিসটা তার পক্ষে কোন ভাবেই অর্জন করা সম্ভব নয়। আর এ সমস্যা থেকে উত্তোনের জন্যই সে যে কোন কায়দায়ই হোক কিছু মুয়ারিয়া পন্থী  চক্র কৌশলগত পন্থা অবলম্বন করে আসছে সেই পনেরশত বছর ধরে ।ওরা আছে ওরা থাকবে এটাই  স্বাভাবিক ও চরম সত্য।বর্তমানে তথাকতিথ "পীরাগি" ব্যবসা বাজারে জমজমাট তাই চাতুরিকতায় করে ছদ্দবশে পির তরিকার আশ্রয় নিয়েছে ।এতে সুবিদা হল খুব সহজে মানুষের মধ্যে ফেৎতনা সৃষ্টি করা তথা বিদ্ধেষ ছড়ানো।এদের মুল উদ্দেশ্য হল সরাসরি এজিদিয়াবাদ  প্রচার পারে না তবে মুয়াবিয়াবাদ  প্রচার করাতে সচেষ্ট ।এদের দুর্বল কখনো ভাববেন না এরা খুব শক্তিশালী চক্র।
এদের অন্যতম উদ্দেশ্য হল আওলাদে রাসুল(সা:) অথ্যাৎ সৈয়দগনের প্রতি বিদ্ধেষীপুর্ন  আচরন তথা কুৎসাত রটনা ও হেয় প্রতিপন্ন করা।যাহা মুয়াবিয়া মসজিদের খুৎবার সুন্নতের অন্তভুক্ত করেছিল ।

🔰আল্লাহ্ পাক বলেন, “আমি জান্নাতের মধ্যে মু’মিনদেরকে তাদের সন্তানদের সাথে মিলিয়ে দেব এবং তাদের  নেক আমলে কোন ঘাটতি করা হবে না।”
📖(সূরা তূর-২১)
অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে নবী করীম সঃ এর মু’মিন আওলাদগণ নবী করীমের সাথেই থাকবেন । এর দ্বারা আওলাদে রাসূলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হল।

“হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, আমি এ পথ প্রদর্শন ও ধর্ম প্রচারের বিনিময়ে তোমাদের নিকট হতে আমার আহলে বাইত (তথা আওলাদে রাসূলের) ভালোবাসা ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান চা ই না।(সূরা শুরা-২৩) এ আয়াতের তাফসীরে আছে যে, নবী করিম সঃ বলেন ‘হে উম্মতগণ! আমার হক্বের কারণে আমার আওলাদকে ভালবাস।’ অর্থাৎ নবী আকরামের কারনেই আহলে বাইতে রাসূলকে ভালবাসা অপরিহার্য, যা অন্য কোন বংশের জন্য প্রযোজ্য হয়না।
 “জেনে রাখ, গণিমতের সম্পদ হিসেবে তোমরা যা কিছু পাবে তার পাঁচটি অংশ আল্লাহ্, রাসূল, আহলে বাইতে রাসূল, এতিম এবং মিসকিনদের জন্য।
(সূরা আনফাল-৪১)
অর্থাৎ গণিমতের মালের মধ্যে আওলাদে রাসূলের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটা অংশ ছিল ।সুন্নি মাযহাবের ইমাম শাফেয়ী রঃএর মত ছিলঃ শুধু সে সময় নয় বরং অদ্যবধি আওলাদে রাসূলগণ তাঁদের অংশ পাবেন, সে সম্মান অন্য কোন বংশের প্রাপ্তি হয়নি।

সালাতে “আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়য়া আলে মুহাম্মদ” অর্থাৎ রসুলের “আল” বা বংশের শানে আল্লাহর কাছে দুরুদ পেশ করা ওয়াজেব।
উপরুক্ত বিষয় গুলো শিয়া সুন্নি সুফি শরিয়তি মারিফতি নির্বিশেষে সবাই নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন এবং মানেন। তার পরও একটি হাদিসের আংশিক বিক্রিত ও ভুল ব্যাখ্যাকে আশ্রয় করে অন্যান্য বংশের সাথে রসুলের বংসকে উচ্চ মর্যাদা না দিয়ে এক কাতারে করা যায় কি ??!!

ওরা তো খোদার জাত। ওরা তো "নাহনু" তথা খোদার সেই "আমরা" পরিষদবর্গ। আর আমরা গোলামের জাত। আমাদের ধর্ম ওদের প্রশংসা করা,আমাদের কর্ম ওদের প্রশংসা করা,আমাদের নামাজ আমাদের ইবাদত ওদের প্রশংসা করা। হজরত ইমাম শাফেয়ী (রাহ:) বলতেছেন:

‎"يا اٰٰل بيت رسول الله حبكمُ     فرض من الله في القران أنزلهُ
‎يكفيكم بعظيم الفخر بأنكمُ       من لم يصل عليكم لا صلاة لهُ"

"হে নবী পরিবার! তোমাদের ভালবাসা আল্লাহ দিয়েছেন ফরজ করে - কুরআনে পবিত্র আয়াত নাজিল করে,তোমাদের মহান মর্যাদা বর্ননার জন্য যথেষ্ট এই,তোমাদের উপর যে দরুদ পড়বে না তার কোন নামাজ নেই।"

সুতরাং উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের আয়াতসমূহ দ্বারা ষ্পষ্ট ও জোরালোভাবে প্রমান হয় যে , আল্লাহ , রাসুল (সাঃ) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতকে (আঃ) বিশ্বের সকল সৃষ্টি থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন অর্থাৎ তাঁরা ফেরেস্তামন্ডলী , জ্বীন , মানুষ , এমন কি অন্যান্য নবীদের ওপরও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ।

🔰তাবরানী বুরাইদা হতে বর্ননা করেছেন , ‘ আমি হযরত আলীর (আঃ) সাথে ইয়েমেনে ছিলাম । যেহেতু তিনি খুমসের মাল ( গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) থেকে একজন দাসী নিয়েছিলেন , সেহেতু তাঁর প্রতি আমার বেশ ক্ষোভ ছিল ।
যখন মদীনায় ফিরে আসলাম তখন রাসুল (সাঃ) এর নিকট তাঁর দাসী সম্পর্কে নালিশ করতে চাইলে কিছু সংখ্যক লোক সমর্থন করল যাতে হযরত আলী (আঃ) এর মর্যাদা রাসুল (সাঃ) এর দৃষ্টিতে অবনত হয়ে যায় ।
রাসুল (সাঃ) এসব কথাবার্তা দরজার পিছন হতে শুনতে পেলেন ।
রাসুল (সাঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন , ‘ তাঁদের পরিনাম কি হবে যারা আলীর প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে ! স্মরন রেখ , যে আলীর প্রতি ঈর্ষা করে সে আমার প্রতি ঈর্ষা করল এবং যে আলী থেকে পৃথক হল সে আমার থেকেও পৃথক হয়ে গেল । নিশ্চয়ই আলী আমার থেকে , আর আমি আলী থেকে । আলী আমার মাটি থেকে সৃষ্ট , আর আমি ইব্রাহিমের মাটি থেকে এবং আমি ইব্রাহিম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ’।
অতঃপর তিনি (সাঃ) আলোচ্য আয়াতটি পাঠ করে বললেন ,
‘ হে বুরাইদা ! সেই দাসীর তুলনায় আলীর হক আরও অনেক বেশী ’ ।
📚সূত্র - সাওয়ায়েকে মুহরিক ও তাফসীরে দুররে মানসুর , ৬ষ্ট খন্ড ,পাতা -১৮ ।




🔰হযরত মাওলায়ে কায়নাত আ: বলেন -
অর্থ: হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো।
১. যে ব্যক্তি আমার বংশধর তথা আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে সম্মান করবে।
২. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে অর্থ-সম্পদ দ্বারা খিদমত করবে।
৩. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে কাজে-কর্মে সহযোগিতা বা খিদমত করবে।
৪. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে মনেপ্রাণে গভীরভাবে মুহব্বত করবে।”
📚(বিহারুল আনওয়ার-৮/৪৯, যখায়িরুল উক্ববা-১৮)

বংশ ধারা ছেলেকে দিয়ে মেয়েকে দিয়ে নয়।কিন্তু এর ব্যতিক্রম হয়েছে দুই জায়গায়।
🔰আনা আলীউন মীন নুরী ওয়াহেদ"
"আমি ও আলী একখন্ড নুর হতে সৃষ্টি" -সহী বুখারী।
১.হযরত ইমরানের কোন পুত্র সন্তান ছিল না।কন্যা হযরত মরিয়মের সন্তান হযরত ঈসা(আ:) কে ইমরানের পুত্র বলে কোরআনে ঘোষনা করা হয়েছে।📖সুরায়ে আল ইমরান।
২.বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (দ:) এর বেলায় একই ব্যতিক্রম হয়েছে।হযরত মোহাম্মদ (দ:) এর কোন পুত্র সন্তান ছিল না। কিন্তু মা ফাতেমা (আ:)এর দুই সন্তান ইমাম হাসান(আ:) ইমাম হোসাইন (আ:)কে নবী সন্তান বলে ঘোষনা করেছেন। সুরা আল ইমরানের ৬১ নং আয়াতে নবীর সন্তান বলা হয়েছে। উনাদের থেকেই সৈয়দ বংশের যাত্রা শুরু।

ইমাম আলী ও মা ফাতেমা (আ:) ছিলেন মাসুম (নিষ্পাপ )।তাদের দুই সন্তানও ছিলেন মাসুম।কিন্তু ইমাম হোসাইন (আ:) এর স্ত্রী মাসুম ছিলেন না।তার উরুসে ইমাম জয়নাল আবেদিন(আ:) মাসুম ।এইভাবে চলতে থাকে ইমাম মাহদী (আ:) পর্যন্ত।সুতরাং মাতা নয় পিতার ঔরুস জাতই বিবেচ্য।ইমাম আলী আ: এর ওরুসে এবং নবী নন্দিনী মা ফাতেমা (আ:) এর গর্ভে সন্তান হাসান ও হোসাইনের বংশধারার নবী মোহাম্মদ (সা:)বংশধরগণকে সৈয়দ বলা হয়। উনাদের থেকেই শুরু হয় সৈয়দ বংশের যাত্রা। আরব দেশের  বিখ্যাত বংশ "সৈয়দ" বংশ। এদেশে সৈয়দগন আরব ভুমি থেকে মুলত ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগমন। পরবর্তীতে এদেশে স্থায়ী হয়ে যান। তাদের বংশধরগন আজো আমাদের দেশে রয়েছেন।

আমাদের দেশেও এই বংশের কদর অনেক।  জাত-পাত আক্রান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে সৈয়দদের শান্তির বানী মানুষদের উপকৃত করেছিল।রুট কানেকশন এবং ঐতিহ্য  অনেক শক্তিশালী  হওয়াতে একটা সময় সৈয়দ বংশের প্রাদূর্ভাব শুরু হয়। সৈয়দ যেহেতু মুসলিম উম্মার প্রবর্তকের বংশধারার উপাধী, একারনে মুসলমান সমাজে এই লকবটার ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্য আকাশচুম্বি। আর ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদা প্রাপ্তি বা অর্জনের লোভ মানুষের স্বভাবজাত। ফলে দেখা যায় ডানে সৈয়দ, বামে সৈয়দ, ঘড়ে সৈয়দ,  বাইরে সৈয়দ.. সৈয়দ সৈয়দ আর সৈয়দ.!  (কিছু হয়তো নকল সৈয়দ)।

কোন বংশের ছাওয়াল তুমি? বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়। সৈয়দের শুদ্ধি অভিযানের প্রশ্ন দেখা যায়।

ছোটবেলায় একটি গল্প মনে পড়ে গেল জানিনা এর সত্যতা তবে তখন খুব মজা পাইছিলাম।দাঁড়ান বলি সেই মজার ঘটনাটা:-
যখন ডানে সৈয়দ, বামে সৈয়দ, ঘড়ে সৈয়দ,  বাইরে সৈয়দ.. সৈয়দ সৈয়দ আর সৈয়দময় এমন সময় আরব প্রশাসন শুদ্ধী অভিজান চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।ঘোষনা  আসে জুম্মার দিনে বিশেষ মাঠে, সকল সৈয়দ একত্রীত হবে সব সৈয়দ বিশেষভাবে প্রস্তুত আগুনের গোলকের ভেতর দিয়ে লাফ দেবে। অনেকটা সার্কাসপার্টির ফায়ার জাম্পের মত।
সৈয়দদের ওপর আল্লার আদ্ধাত্মিক আনুকুল্য আছে তাই আগুনের গোলকে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। এপার থেকে অন্য পারে লাফ দেবার পরেও,  আইরন করা জিব্বাতে ভাজ পড়বে না।নির্দিষ্ট দিনে দেখা গেল অর্ধেকের বেশী সৈয়দ মাঠে অনুপস্থীত। বেত্রাঘাতের ভয়ে, আগুনে ঝলসানোর ভয়ে পাগারপার....।
যারা অগ্নি গোলক খেলতে আসে নাই তাদের আর কক্ষনোই আরবের মাটিতে দেখা যায়নি।এভাবেই আরবে জেনেটিক্যালি শুদ্ধ সৈয়দ প্রতিষ্ঠালাভ করে।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগের এই বংশের সাথে কোনা যোগসূত্র না থাকলেও বাংলাদেশের অনেক মুসলমান পরিবার (নকল সৈয়দ পরিবার)সৈয়দ বংশ পদবী ব্যবহার করে নিজেদের সম্ভ্রান্ত ও কুলীন মুসলমান বলে দাবি করে থাকেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে সৈয়দ পদবীর অপব্যবহার ও পক্ষেপণ ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। প্রকৃত পক্ষে সৈয়দ নন এবং পারিবারিক কোন কুলীন পদবীও নেই, অথবা পূর্ব পদবী ঐতিহ্য পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক বংশ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষে বাংলাদেশে সৈয়দ পদবী আরোপিতভাবে ব্যবহার শুরু করেছে। প্রচুর বাঙালি মুসলমান রয়েছে যারা পূর্ব ঐতিহ্যগত ভাবে সৈয়দ নন, অথচ তাদের নামের পূর্বে পদবীর  ব্যবহার শুরুকরে দিয়েছেন।কেউ কেউ আবার পরিচয়বাহী সংক্ষিপ্ত শব্দ বা শব্দ গুচ্ছ যথা ‘এস-এম’ যুক্ত করে থাকেন। বস্তুত এস.এম হচ্ছে ‘সৈয়দ মোহাম্মদ’ অথচ ব্যবহারকারীরা অনেক সময়ই তা পুরোপুরি ভেঙে লেখেন না হয় তো ভয়ের কারণে।

বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।
বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি। আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।
বাঙালির আরও কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর যেমন-শিকদার, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

#শিকদারঃ সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর সাথে ফারসি দার যুক্ত হয়ে শিকদার বা সিকদার শব্দের উদ্ভব হয়েছে। এরা ছিলেন রাজস্ব আদায়কারী রাজকর্মচারী। শব্দকোষে যাকে বলা হয়েছে শান্তিরক্ষক কর্মচারী। এরা শিক বন্দুক বা ছড়ি বন্দুক ব্যবহার করতো বলে শিকদার উপাধী পেয়েছিল; সেই থেকে বংশ পরমপরায় শিকদার পদবীর বিকাশ ঘটে।

#শেখঃ শেখ আরবি থেকে আগত পদবী। সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের সম্মানসূচক বংশ পদবী শেখ। যিনি সম্মানিত বৃদ্ধ অথবা যিনি গোত্র প্রধান, তাকেই বলা হতো শেখ। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) সরাসরি যাকে বা যাঁদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন, তিনি বা তার বংশ ধরও শেখ নামে অভিষিক্ত হতেন অথবা শেখ পদবী লাভ করতেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে যারা শেখ পদবী ধারণ করেন, তারা এ রকম ধারণা পোষণ করেন না যে, তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন সৌদী আরব থেকে। বাঙালি শেখ পদবী গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে ঐ পূর্বোক্ত চেতনা। নবীর হাতে মুসলমান না হলেও বাংলায় ইসলাম ধর্ম আর্বিভাবের সাথে সাথে যারা নতুন ধর্মকে গ্রহণ করে নেন; নও মুসলমান’ হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে তারাই শেখ পদবী ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের বংশের উত্তর সূরীরাই শেখ পদবী ব্যবহার করে এসেছেন। এমনিতে অন্য ধর্মের লোকের কাছে মুসলমান মানেই শেখ বা সেক। কেউ কেই শেখ কেউ সেক কিংবা কেউ বা শেখ এর রূপান্তর শাইখও ব্যবহার করে থাকেন।

#মীরঃ মির বা মীর শব্দটি এসেছে আরবি থেকে। আরবি শব্দ আমীর’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মীর। সেই অর্থে মীর অর্থ দলপতি বা নেতা, প্রধান ব্যক্তি, সরদার ইত্যাদি। জিতে নেয়া বা জয়ী হওয়া অর্থে মীর শব্দের ব্যবহার হতো। তবে মীর বংশীয় লোককে সম্ভ্রান্ত পদবীধারীর একটি শাখা বলে গাবেষকরা মনে করেন।

#মিঞাঃ মিঞা মুসলিম উচ্চ পদস্থ সামাজিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করার জন্য ব্যবহৃত সম্ভ্রম সূচক শব্দ। এক অর্থে সকল মুসলমানের পদবীই হচ্ছে মিঞা। বাঙালি হিন্দুর মহাশয়’ এর পরিবর্তে বাঙালি মুসলমান মিয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকে। মিঞা’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। প্রভু বা প্রধান ব্যক্তি বুঝাতেও মিয়া শব্দের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে গ্রামীন প্রধান বা সর্দার অর্থের মিঞা পদবী হিসেবে বাঙালি মুসলমান সমাজে ঠাঁই পেয়েছে।

#খন্দকারঃ মুসলিম সমাজের ফারসি শিক্ষক হিসেবে খোন্দকার বা খন্দকারের পরিচয় পাওয়া যায় । অন্য দিকে খোন্দকারের ‘ পদবী এসেছে সামন্ত সমাজ থেকে পেশাজীবী হিসেবে। সাধারণ ভাবে খোন্দকার বা খন্দকার অর্থ হচ্ছে কৃষক বা চাষাবাদকারী । মনে করা হয় ফারসি কনদহ ‘ এর যার অর্থ কৃষি’সাথেকার যুক্ত হয়ে কনদহকার> খনদহকার>খন্দকার হয়েছে। ভিন্ন মতে, খন্দকারের মূল উৎপত্তি সংস্কৃত কন্দ> খন্দ যার অর্থ ফসল বলা হয়েছে। এই খন্দ এর সাথে কার যুক্ত হয়েও খন্দকার> খোন্দকার হতে পারে। এবং এতেও পূর্বের খন্দকার’ শব্দের উৎসের অর্থের তারতম্য ঘটছে না। আবার ফারসি ভাষায়, খোন্দকার বলে একটি শব্দ আছে যার অর্থ শিক্ষক। সেখান থেকেও খোন্দকার পদবী আসা বিচিত্র কিছু নয়। অথবা খোন্দকার শব্দের যে ভিন্নভিন্ন অর্থ তার সবগুলো মিলিত তাৎপর্য থেকেই বিভিন্নভাবে খন্দকার পদবীর উৎপত্তি হয়েছে।
শাহ ফকিরঃ মুসলমানদের মধ্যে সন্ন্যাসবৃত্তি’ থেকেই এসেছে শাহ ফকির’ পদবী। মরমী সাধকরা গ্রহণ করতেন শাহ ফকির’ পদবী। এটি আরবি শব্দ, যার মূল অর্থ নি:স্ব। আবার আরবি ফকর শব্দের অর্থ দারিদ্র। এ থেকে ফকির শব্দের উৎপত্তি। ফকির এবং পার্শি দরবেশ ব্যক্তিগণ সাধারণত এদেশে শাহ ফকির নামে পরিচিত। বিশেষ কোন ধর্ম মতের একান্ত অনুসারী না হয়ে যারা সকল ধর্মের মূলনীতি নিয়ে আত্মতত্ত্বের সন্ধান করেন তাদেরকেও শাহ ফকির বলা হয়। আবার সুফি বা বাউল তত্বের ধারকরাও শাহ ফকির লেখেন।

#সাহেব   /বিশেষ্য পদ/ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, মহাশয়, মালিক,যা ধর্মীয় অর্থে এই উপমহাদেশে প্রচলিত।
 “সাহেব” শব্দ সন্ত্রাস্ত বা সন্মানিত ব্যক্তি – এই অর্থে " মুসলমান যুগে আমাদের দেশে প্রচলিত হয়। মুসলমান যুগের পূৰ্ব্বে বাংলায় “বাবা” (পিতা এই অর্থে) স্থলে “বাপু" শব্দ ব্যবহৃত হইত বলিয়া বোধ হয় । এখনও নিম্নশ্রেণীর মধ্যে অনেক স্থলেই "বাবার” পরিবর্তে “বাপু” যলিয়। পিতাকে আহ্বান করিতে শুনা যায়। এই বাংলা “বাপু” ও ফার্সী “বাবা" শব্দে সংমিশ্রণে বোধ হয় উর্দুতে বাবু শব্দের প্রচলন হয় এবং ক্রমে ক্রমে উহার অর্থ সম্প্রসারণ ঘটে ( জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের অভিধান দ্রষ্টয্য) । পূৰ্ব্বে এই “বাবু’ শব্দে রাজবংশীয় ব্যক্তিগণের বা উচ্চপদস্থ জমিদারবর্গেরই একচেটিয়া অধিকার ছিল বলিয়। বোধ হয়। কিন্তু ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পাণীর প্রথম যুগে এই “বাবু” শব্দ কোম্পানীর আশ্রিত · পারসী ও ইংরেজী ভাষায় সামান্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের প্রতি প্ৰভু? হওয়ায় ইহার অর্থ-গৌরব অনেক পরিমাণে হ্রাস প্রাপ্ত হইয়া বৰ্ত্তমানে ইহা শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের নামের পরে ব্যবহৃত সৌজন্ত বা ভদ্রত প্রকাশক শব্দমাত্রে পর্য্যবেশিত হইয়াছে । এই “বাবু’ শব্দ এখন ইংরেছি Mr. & Esquire “to তুল্যর্থবাচক } আরবী "সাহব’ শব্দ হইতে এই “সাহেব’ শব্দের উৎপত্তি (জ্ঞানেজমোহন দাসের অভিধান দ্রষ্টব্য)। আরবি 'সাহব' শব্দের অর্থ হল সহচর, সঙ্গী বা সাথী। আরবিতে এ 'সাহব' শব্দ থেকে তৈরি হয়েছে 'সাহাবি'। বাংলা 'সাহেব' ও আরবি 'সাহব/সাহাবি ' শব্দ সম্পর্কের দিক থেকে অভিন্ন হলেও দেশভেদে এক।মুসলমানদের রাজত্বকালে এই “সাহেব' শব্দ ফকির, মৌলবী ও সন্ত্রাপ্ত ব্যক্তিদিগের নামেই প্রযুক্ত হইত।মূলতঃ অর্থে যিনি আল্লাহ পাককে পাইয়ে দেবার ক্ষেত্রে বা আল্লাহ পাক এর সাথে রূহানী সংযোগ করে দেয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, উনাকেই সাহেব বলা হত। কিন্তু পলাশীর যুদ্ধের পর যখন ইংরেজরাই বাংলা দেশের সর্বময় কৰ্ত্ত হইয়া উঠিল, তখন সঙ্গম-ৰাচক সাহেব' শব্দ হিন্দু বা মুসলমানদিগের অপেক্ষ তাহদের প্রতিই অধিকতর প্রযুক্ত হইতে থাকায় এই "সাহেব’ শব্দ তরঙের অন্তান্ত প্রদেশে নানা অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু হয়।

যেমন ধরুন:-সংস্কৃত লট্ট থেকেও বাংলায় লাট শব্দটি এসেছে। মূলে সংস্কৃত লট্ট অর্থ নষ্ট স্বভাব, দুর্জন। এ কারণে নষ্ট, দুষ্ট, গর্বিত, অহংকৃত, দাম্ভিক অর্থেও লাট শব্দটি প্রচলিত। আবার বাংলায় লাট শব্দটি রঙ্গ তামাশা বা ব্যঙ্গচ্ছলে ইয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় ( কি লাট! খবর কি?)। প্রভু বা সর্বময় কর্তা অর্থেও লাট শব্দের প্রয়োগ রয়েছে (ভারি আমার লাট এসেছেন)।সংস্কৃতেও লাট শব্দটি রয়েছে। আর সংস্কৃ ত 'লাট' অর্থ দক্ষিণ গুজরাটের প্রাচীন নাম, পণ্ডিত, রসজ্ঞ, জীর্ণ বস্ত্রাদি।

যাইহোক উপরোক্ত আলোচনা থেকে একটা বিষয় ক্লিয়ার উনারা সম্ভান্ত্য পরিবার কিন্তু সৈয়দ পদবীর সাথে কোন যোগসুত্র পাওয়া যায় না।এরকম শতাধিক বংশ পদবী রয়েছে আমাদের দেশে। বাঙালির পদবীর ইতিহাস বৈচিত্র পথ ও মতের এক অসাধারণ স্মারক হিসেবে চিহিৃত। আমার পশ্ন তবে কেন উনারা সৈয়দ হওয়ার এত খায়েস?চলমান কালে সৈয়দ লকব প্রহৃত হওয়ার  সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে একটি মতলবি ও মিথ্যা প্রচারনা, সেটা হল- সৈয়দ লকব অর্জনযোগ্য। অথচ সৈয়দ হচ্ছে বরাবরই একটা বংশ বা রক্ত পরম্পরা লকব।

প্রকৃত সৈয়দগনের কাছে এই সৈয়দ লকবটা কোনই শান-দেমাগের বিষয় না, বরং এটা খোদা তায়ালা প্রদত্ব তাঁদের গর্দানে পড়িয়ে দেওয়া একটা দায়িত্বের বেড়ি; যে বেড়ির কারনেই সৈয়দদের এত দুঃখকষ্ট, অতৃপ্তি, অন্তরজাতনা আর শেষ রাতের আরামের ঘুম হারাম করতে হয়। আউলাদে রাসুলগনের মধ্যে যারা আয়েম্মা আ:দের আকিদা,আমল, আখলাকের অনুবর্তী হোন- তাঁরাই কামিয়াব, তাঁরাই কোরানের সাথে চলেন। তাছাডা সৈয়দ হয়েও কোন মুল্য নেই।

0 Comments