জগন্নাথপুরে ভুয়া সনদে চাকরি নেয়ার চেষ্টা, স্থানীয়দের আন্দোলনের প্রস্তুতি

জগন্নাথপুর ভূয়া সনদে চাকরি নেয়ার চেষ্টা, স্হানীয়দের আন্দোলনের প্রস্তুতি




 স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শুণ্য পদে শুধু মাত্র জগন্নাথপুর উপজেলার অধিবাসী হওয়ার শর্তে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আবেদন পত্র গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ প্রার্থী বহিরাগত বলে জানা গেছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিগত বছরের মতো এবারও বহিরাগতদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় উপজেলার চাকরিপ্রার্থীরা উৎকন্ঠায় রয়েছেন। ভূয়া নাগরিক সার্টিফিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা সেজে সহকারি শিক্ষক পদে চাকরি লাভের জন্য এবারও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে তাদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত বছরও এই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা সেজে ভূয়া নাগরিক সনদপত্র নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে ১৮৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলায় রয়েছেন ৫০১ জন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীই উপজেলার বহিরাগত। যা সরকারি নীতিমালা পরিপন্থি।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা চলতি মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরীক্ষা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সে লক্ষ্যে প্রার্থীদের নাগরিক সার্টিফিকেটসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে মৌখিক পরীক্ষার আগে। এজন্য গত কয়েকদিন ধরে জগন্নাথপুর পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূয়া নাগরিক সনদপত্র সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়াা হলদিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হিরা মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কয়েকজন বহিরাগত লোক নাগরিক সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন । কিন্তুু আমরা স্থানীয় অধিবাসী ছাড়া কোন বহিরাগত ব্যক্তিকে ভূয়া নাগরিক সনদ দেব না।

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ জানান, বহিরাগতদের বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। বহিরাগত কাউকে নাগরিক সনদপত্র দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য প্রবাসি অধ্যুষিত এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষই প্রবাস নির্ভরশীল। এক সময় এই উপজেলায় বিদেশমুখী প্রবন হওয়ায় লেখাপড়ার প্রতি অমনযোগী ও সরকারি চাকরিতে অনাগ্রহী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিদেশে যাওযার সুযোগ কঠিন ও সংকুচিত হওয়ায় বিদেশমুখী প্রবণতা কমতে শুরু হওয়ায় এখন স্থানীয় অধিবাসীরা লেখাপড়ার প্রতি মনযোগী ও সরকারী চাকরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তুু বহিরাগতদের দাপটে স্থানীয়রা অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। জগন্নাথপুর উপজেলার এক শ্রেনীর অসাধু জনপ্রতিনিধিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে বহিরাগত লোকজন ভূয়া নাগরিক সনদপত্রের মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করে কর্মস্থলে যোগদান করেই কিছুদিন পর নিজ এলাকায় চলে যান। ফলে এ উপজেলায় দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে শিক্ষক সংকট লেগেই আছে।

জগন্নাথপুর নাগরিক অধিকার ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ নুরুল হক জানান, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ প্রাপ্তকে স্ব স্ব এলাকায় যোগদান করার কথা। কিন্তুু আমাদের এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গত বছরও কয়েকজন ভুয়া নাগরিক সনদের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। তাদের প্রতারণার কারণে আমাদের স্থানীয় প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষার্থী খালেদ আহমদ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অন্য এলাকার লোকজনের দাপটে আমরা স্থানীয় অধিবাসীরা নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এবার ভূয়া নাগরিক সনদপত্র রোধে আমরা আন্দোলনে নামব।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, সহকারি শিক্ষক পদে এবার জগন্নাথপুরে ৫০১ জন উর্ত্তীণ হয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে চলতি মাসের শেষ দিকে মৌখিক পরীক্ষা হবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ভূয়া সনদপত্র নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার নাগরিক সেজে যারা চাকরি নেয়ার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 Comments