যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির মনােনয়ন দৌড়ে জগন্নাথপুরের মেয়ে আপসানা






যুক্তরাজ্যের আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে এমপি পদে লড়তে লেবার পার্টির দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইনাতনগর এলাকার মেয়ে আপসানা বেগম। তিনি বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলার এন্ড লাইমহাউজ নির্বাচনী আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটা এগিয়েও রয়েছেন।

জানা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটসের সচেতন মানুষের দৃষ্টি এখন পপলার এণ্ড লাইমহাউজ নির্বাচনী আসনের দিকে। কারণ এই আসনের পরবর্তী এমপি কে হবেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামীকাল রবিবার (২৭ অক্টোবর)। এদিন পপলার এণ্ড লাইমহাউজের ১৫০০ লেবার সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পরবর্তী এমপি প্রার্থী নির্বাচিত করবেন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেবার পার্টির শর্ট লিস্টে থাকা প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা বেশ জমে ওঠেছে।

লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন পেতে প্রায় ১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরবর্তিতে লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে ৩ জনের নামের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ওই তিনজন হলেন, লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়নের বোর্ড মেম্বার বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত জগ্ন্নাথপুরের মেয়ে আপসানা বেগম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার, বো ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমালী বংশোদ্ভুত আমিনা আলী ও বৃটিশ বংশোদ্ভুত হিদার পিটো।

 

তিন প্রার্থীই এখন ব্যস্ত সময় কাটিয়ে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন। লেবার পার্টির সদস্যদের মন জয় করতে প্রতিদিনই  দরজায় কড়া নেড়েছেন। তাছাড়াও ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। যেহেতু পপলার এণ্ড লাইমহাউজ হচ্ছে লেবার পার্টির শতভাগ নিরাপদ আসন সেহেতু রবিবারের ভোটাভোটিতে যিনি বিজয়ী হবেন তিনিই হবেন পরবর্তীতে ওই আসনে লেবার পার্টির এমপি। এজন্য প্রার্থীরা ২৭ তারিখের দলীয় মনোনয়নের এ নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

 

তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশি বাংশোদ্ভুত আপসানা বেগম হচ্ছেন নতুন প্রজন্মের প্রার্থী। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম মনির উদ্দিন আহমদ ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সিরিমনিয়াল মেয়র। বাবার রাজনৈতিক জীবন তাঁকে রাজনীতিতে আসতে উদ্ধুদ্ধ করেছে। তিনি লেবার পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাফলতার মুখ দেখেন। টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি পপলার এণ্ড লাইমহাউজ আসনে লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান, মোমেন্টামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটিং গ্রুপের সদস্য ও লন্ডন লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়নের বোর্ড মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিসের বাজেট সম্পুর্ণভাবে কেটে ফেলতে চাইলে একটি জোরালো ক্যাম্পেইন গড়ে ওঠে। এতে আপসানা বেগম গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এর আগে টাওয়ার হ্যামলেটসের তিনটি ডে নার্সিারী বন্ধের ঘোষণা দিলে  তিনি এ ব্যাপারেও সোচ্চার ভুমিকা পালন করেন। মূলত এসব ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি কমিউনিটি মানুষের কাছে পরিচিত লাভ করেন। ২৭ তারিখের প্রার্থী বাছাইয়ের ওই নির্বাচনে তিনি সদস্যদের কাছে ভোট চেয়েছেন।

 

লেবার পার্টির সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা আপসানা বেগম বলেন, আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে এমপি নির্বাচিত হলে আমাকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমুলের মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক। আমি তৃণমুলের মানুষের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি। আপনাদের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে আপনাদেরই সেবা করতে চাই।

উল্লেখ্য, পপলার এণ্ড লাইমহাউজের বর্তমান এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক দীর্ঘ ২২ বছর পর গত ২৫ জুন ‘রি-সিলেকশন অব এমপিজ প্রো-ফরমা’তে স্বাক্ষর করে আগামী নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী না হওয়ার বিষয়টি লেবার পার্টির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি অধ্যুষিত পপলার এণ্ড লাইমহাউজ আসনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জিম ফিটজপ্যাট্রিক ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পপলার এন্ড ক্যানিং টাউন আসনের এমপি ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচনী আসনগুলোর সীমানা পরিবর্তনের পর ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পপলার এণ্ড লাইম হাউজ আসনের এমপি দায়িত্ব পলন করছেন। তিনি সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বৃটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। লেবার পার্টি এই আসনে শুধু মহিলা প্রার্থীদের নির্বাচন করছে



0 Comments